আমরা জানি কৃষি ও পোশাক শিল্পের সমৃদ্ধ ভান্ডার নিয়ে বাংলাদেশ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর থেকে অনেকাংশে এগিয়ে রয়েছে। একদিকে উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা ও অন্য দিক দিক দিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে আমরা এক পা এগিয়ে যাই আর দু পা পিছাই। এমতাবস্থায় পর্যটন নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো কত দূর এ একটি প্রশ্ন থেকে যায়।
আমাদের দেশের নব্বই ভাগ মানুষ কোন না কোন ভাবে কৃষির সাথে জড়িত আর পর্যটন কে কৃষির সাথে সম্পৃক্ত করতে পারলে পর্যটন ও কৃষি দুটিই সমৃদ্ধ হবে। এখন এই কৃষি পর্যটন সম্পর্কে আমাদের ধারণা কতটুক স্বচ্ছ ও এর উন্নয়নে আমরা কিভাবে ভূমিকা রাখব এটিই এখন ভাববার বিষয়। বিগত পর্যটন বছরগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে বেশীরভাগ সময়ই পর্যটনের সময়গুলোতে রাজনৈতিক ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় এর স্বাভাবিক আয় ব্যহত হয়েছে। তবে আশার কথা হল মানুষ ইন্টারনেট ও মিডিয়ার সহযোগীতায় পর্যটনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে।
বহুমাত্রিক শিল্প হিসেবে পর্যটন বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পরিকল্পনা, পর্যপ্ত পুঁজি বিনিয়োগ, আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য সংগ্রহ, ভৌত ও কাঠামোগত সুবিধাদি স্থাপন, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও স্থাপনাসমূহের সংরক্ষণ, সম্ভাব্য পর্যটন স্থানসমূহ চিহ্নিত করে সংরক্ষণ, চারু ও কারু শিল্পের লালন ও বিকাশ, বিদেশিদেরযাওয়া আসার পদ্ধতি সহজ করা, হস্তশিল্পের উন্নয়ন, বনাঞ্চল ও বন্য জীব জন্তুর সংরক্ষণ, বিমান বন্দর উন্নতকরণ, বৈদেশিক প্রচার ও বিপণন ইত্যাদির সমণ্বয় সাধন, ব্যক্তিগত পর্যটন ও সৃষ্টিশীল চিন্তার সমণ্বয়, পর্যটন কেন্দ্রে নিত্য নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, উপযুক্ত ও প্রশিক্ষিত লোকবলের সংযোজন ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
অর্থাৎ পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি বিশাল কাজ এর ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এখন এটি কোন একার পদক্ষেপ নয়। বরংচ সর্ব স্তরের মানুষের সহযোগীতা ও প্রচেষ্টায় পর্যটন শিল্প কে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে হবে। আর এর মাধ্যমেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। যা স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি দেশের জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তিকে ত্বরাণ্বিত করবে।
লেখা



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন